Friday, October 7, 2022
HomeStoryসাইলার সুখদুঃখের জীবন কাহিনী

সাইলার সুখদুঃখের জীবন কাহিনী

সাইলার সুখ দুঃখের জীবন কাহিনী

কলকাতার বারাসত জেলার বামনগাছির চপলা চঞ্চলা একটি মেয়ে ছিল ।নাম তার সাইলা ।সকলে তাকে রক্কা বলে ডাকে ।বাবা মারা গেছে অনেক আগে ।ছয় ভাই বোন তারা।বাবামারা যাওয়ার ভাইভাবীর সংসারে বড় হয়।মেয়েটি যখন দশম শ্রেনীতে উঠার পর তার ভাইরা বিবাহের পাত্র দেখতে শুরু করে। এক দিন সে তার বোনের বাড়ি বেড়াতে আসে ।হঠাৎ তার বোন অসুস্থ হয়।অসুস্থ বোনকে নিয়ে সে তার জামাইবাবুর সাথে বিথারীর ডাঃ টি .আহমদ এর কাছে আসে।

ডাঃ বাবু চিকিৎসা দেওয়ার পর সাইলার জামাইবাবুকে জিজ্ঞাসা করে এই মেয়েটি কে।সে বলে এই মেয়েটি আমার স্ত্রীর ছোট বোন। ডাঃবাবু সাইলার জামাইবাবুকে বলে আমি কাল তোমার বাড়ি আসছি।ডাঃবাবু বাড়িতে গিয়ে খাওয়ার টেবিলে বসে সাজিদের বিয়ে নিয়ে আলোচানা করে।পরের দিন ডাঃবাবু রক্কার জামাইবাবুর বাড়িতে য়ায় এবং তার ভাগ্না সাজিদের পছন্দ হয়েছে বলে জানাই।ডাঃবাবু বলে আমি ওকেছোট বেলা থেকে মানুষ করেছি।কলকাতা রয়েল ইনজিয়ারিং কলেজ থেকে ম্যাকানিক্যাল বিভাগে ডিপ্লোমা করে বিথারী বাজারে ব্যাবসা করে।

সাইলার জমাইবাবু বলে মেয়েটির বাবা নেই ।তার বড় ভাইদের সাথে বিষয়টা আলোচানা করে ডাঃবাবুকে জানাই।তারপর দেখাদেখি এরপর তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।বিবাহের কিছু দিন পর সাইলার কোল আলো করে আসে তার প্রথম সন্তন। ডাঃবাড়ির প্রথম বংশধর।সকলের খুব আদর যত্নে বড় হতে থাকে।
ছেলেটির বয়স যখন দুই বছর তখন হঠাৎ সাজিদের মা তার ভাইকে বলে ভাই সাজিদের বাবা একা বড় সংসার চালাতে পারচ্ছেনা।তাই তুমি যদি অনুমতি দাও তাহলে আমি ছেলেকে বাড়ি নিয়ে যেতে চাই।

সাইলার সুখদুঃখের জীবন কাহিনী
সাইলার সুখদুঃখের জীবন কাহিনী

ডাঃবাবু তার বোনকে বলে তুমি সাজিদকে নিয়ে যেতে পার ।কিন্তু আমার পোতাছেলেকে দেবনা।কিন্তু সাইলা তার ছেলেকে নানিয়ে সে কোথাও যাবেনা ।পরে অনেক বাগবিডন্ডার পর সাজিদ চলে আসে তার মায়ের সাথে বাংলাদেশে।বলে রাখি সাজিদের পরিবার ভারতের হিন্দু মুসলিম রাইটের সময় তৎকালিন পূবপাকিস্তানে চলে আসে।যটি বতমান বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ।শশুর বাড়ি আসার পর সাইলার জিবনে আসে চরম দূরঘটনা।

শশুরবাড়ি আসার পর সাইলার জিবনে আসে বড় সংগ্রাম।স্বামীর একা উপজন দিয়ে বড় সংসার চলছেনা।আভাব যেন পিছু ছাড়চ্ছেনা।এরমধ্যে সাইলা আরো তিন সন্তানের মা হয়।সাইলির মনে অনেক কষ্ট ।কারন সে নিজে যাইতে পারেনা বাবার বাড়ি বাচ্ছাদেরও পাঠাতে পারেনা তাদের মামার বাড়ি।ভারত বাংলাদেশ সিমান্তে বৈরী হওয়ার কারনে নিজে যেমন যেতে পারেনা তেমনি বাচ্ছাদে তাদের মামার বাড়ি পাঠাতে পারেনা।এটা তার জন্য অনেক কষ্টের।শুধু তাই নয়।তার নিজের আত্নীয় স্বজন এমনকি তার নিজের জন্মদাতা মার মিত্যু কালিন শেষ মুখটা সেদেখতে পায়না ।এরপর একএকে তার চার ভাই একবোন মারা গেছে ।অথচ এতটুকু চোখের দেখা দেখতে পাইনি।এটা সাইলার জন্য কত কষ্টের তা একমাত্র সেই জানে।

দিনেদিনে বহু বছর হলো তিনি তার বাবার বাড়ি যেতে পারেনা।মনের কষ্ট বুকে মধ্যে পাথর চাপা দিয়ে সে ছেলে বৌমা পোতা-পোত্নী নিয়ে তার আজ ভরা সংসার।ভরা সংসারে সে অনেক সুখি হলেও মনেতো কষ্টগুলো ঠিকই চোখ থেকে জল ঝরায়।চোখের জল ঝরিয়ে সে নিজের মনকে হালকা করা ছাড়া আর কোন উপয় নেই। আর এটাই তার ভবিতব্য বলে মেনে নিয়েছে।।

আরও পড়ুনঃ   নয়ন আর সোনালীর ভালোবাসা

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments