Friday, October 7, 2022
HomeStory মেধাবী সোহেল গ্রামের রত্ন

 মেধাবী সোহেল গ্রামের রত্ন

                    মেধাবী সোহেল গ্রামের রত্ন 

গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে সোহেল।বাবা একজন স্কুল শিক্ষক।ছোট বেলা থেকে সে অত্যান্ত মেধাবী।কখনো কোন পরিক্ষায় সে প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হয় নাই।স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে।এক সময় সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্ব কালের সেরা নম্বর পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়।

লেখাপড়া শেষ করে সোহেল প্রবেশ করে তার কর্ম জীবনে।সেএকজন গবেষোক।পৃথিবীর বিভিন্ন রোগের নতুন নতুন ঔষধ তৈরী করাই তার কাজ।হঠাৎ পৃথিবীতে আসে এক নতুন রোগ।যেটা মানুষ একবার আক্রান্ত হলে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে মারা যায়।২৪ ঘন্টার মধ্যে এন্টি ভাইরাস দিতে পারলে আক্রান্ত মানুষ বেচে যাবে।সোহেল এমন একটা এন্টি ভাইরাস আবিস্কারের চেষ্টা করে।আর তাকে সহোযগীতা করে বিদেশী এক গবেষোক।নাম তার মিঃ গ্রিফিত।সোহেল এই কঠিন কাজকে সফল করার জন্য সে নিজেকে একজন আলাভোলা সাধারণ মানুষের রুপ ধারন করে।

কাজের প্রয়োজনে সোহেলকে কিছু দিন শহরে অন্য রুপে থাকা লগবে।তাই তার একটা নিরাপদ আশ্রায়ের দরকার।তখন তার বাবা বলে আমার বন্ধু থাকে শহরে।সে অনেক ধনী।তুমি চাইলে সেখানে থাকতে পার।সোহেল তার বাবার থেকে একটা চিঠি নিয়ে শহরে যায় এবং তার বাবার বন্ধুর বাড়িতে উঠে।তখন ঐবাড়িতে বিবাহের আয়োজন চলছে।ঐই বাড়ির একমাত্র মেয়ের বিয়ে।নাম তার শিলা।অনেক আয়োজন বড়লোকের অনুষ্টান বলে কথা।

বিবাহের সব প্রস্তুতি যখন শেষ বরকনের চার হাত এক হওয়ার সময় তখনি একটা দমকা হাওয়া এসে সবকিছু এলোমেলো করে দেয়।বিবাহ অনুষ্টানে হঠাৎ পুলিশ এসে বর রবিনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।কারন হিসাবে পুলিশ জানায় ঋীণ খিলাপী।এই দৃশ্য দেখে শিলা অজ্ঞান হয়ে যায়।এমন সময় শিলার মায়ের অনুরধে সোহেলের সাথে শিলার বিবাহ হয়।

জ্ঞান ফিরে শিলা দেখে গ্রামের আলাভোলা অশিক্ষিত সোহেলের সাথে বিবাহ সম্পরন্ন হয়েগেছে।শিলা আর শিলার বাবা এবিয়ে মানতে পারেনা।শিলা আর তার বাবা সোহেলকে পদেপদে অপমান করে।সোহেল তার কাজের স্বাথে সব অপমান নিরবে সয্য করে।দিন যত যাইতেছে সোহেল একটু একটু করে খোলস ছেড়ে বের হচ্ছে।একদিন শিলা পথে সোহেলকে দেখে অবাগ হয়ে যায়।একি আমার বর।কোট টাই পরা হাতে অফিসিয়াল ফাইলএকজন হ্যান্ডসাম ছেলে।কিন্তু সোহেল তো ঐ অফিসে সামান্যবিয়ারর চাকুরী করে।শিলার মনে মনে ভাবে কে এই সোহেল।আসলে সে যা দেখাই সেকি তাই নাকি অন্যকিছু।

অন্য আর একদিন শিলার মাও সোহেলকে দেখে অবাগ হয়ে যায়।সে তার তার মেয়েকে ফোন করে জানতে চাই সোহেল কোথায়।শিলা জানাই সোহেল শহরে গেছে।তখন শিলার মা নিশ্চিত হয় এটা সোহেল ।কিন্তু সাথে পুলিশ কেন।আসলে সোহেল পুলিশের সাথে কথা বলছে তাদের গবেষনাভবনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য।

শিলা একদিন সোহেলকে বলে খুব তো স্বামী বলে দাবি করো আজ পর্যন্ত না কিনে দিয়েছো একটুকরা কাপড় নাকিনে দিয়েছো এতটুকু স্বর্ণ।যা সোহেলের পুরুষত্তে আঘাত করে।সে শিলাকে নিয়ে সপিং করতে নিয়ে যায়।সে শিলাকে শাড়ি গয়নায় ভরে দেয় এবং সব বিল সে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে মিটাই।এটা আবার শিলা দেখতে পায়।বাড়ি ফিরার পর শপিং দেখে সবার চোখ যখন ছানাবড়া তখন শিলার বাবা আর বড়দাদা মিলে সোহেলকে অপমান করতে থাকে তখন শিলা তার মাকে জানাই সোহেলের পকেটে ক্রেডিট কার্ড।জানোমা সমস্থ বিল সে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে মিটেয়েছে।

শিলার কাছ থেকে সব কিছু শুনে সবার মনে একটাই প্রশ্ন কে এই সোহেল।খোজখবর নিয়ে শিলার মা ও তার বড়ভাবি জানতে পারে সোহেল কোন অসৎ ছেলে নয়।সে একজন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় টপার।এখানে শেষ নয় আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের যেসব বই পড়ানো হয় তার মধ্যে অনেক বই সোহেলের লেখা।

সোহেল বাড়ি ফিরার পর শিলার বড়ভাবি জিজ্ঞাসা করে তুমি আসলে কে ।কেনো আমি বিয়ারা।আচ্ছা ঠিক আছে মানলম তাহলে মিঃগ্রিফিথ কে।মিথ্যা বলালার কোন জায়গা আর নেই আমি সব জানি।বউমনি আজ আমি আপনাকে সব বলব।তবে আপনি কাউকে বলবেনা কথা দিন।ঠিক আছে বলবনা।যে অফিসটাই আপনারা আমাকে বিয়ারা হিসাবে দেখেছেন আসলে আমি ঐ অফিসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।বর্তমান বিশ্বে একশ্রেনীর দুষ্টু চক্র একধরনের ভাইরাস ছড়াচ্ছে যার আক্রান্ত হলে মানুষ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে মারা যায়।২৪ ঘন্টার মধ্যে এন্টি ভাইরাস না দিতে পারলে সে বাচেনা।আমি এই এন্টি ভাইরাস নিয়ে কাজ করছি ।আর যেটার সুত্র শুধু মাত্র আমি আর গ্রিফিথ জানি।আজ আমার জিবন সংশায়।দুষ্টু চক্র জেনে গেছে এটা আমার আবিস্কার।তারা আমাকে শতশত কোটি টাকা দিতে চায় সুত্রটার জন্য।আমার জিবন দিতে রাজি কিন্তু কোন ভাবে দেশের সম্পদ দুষ্টু চক্রের হাতে তুলে দিতে পারিনা।তাই এই চিপসটা আপনার কাছে রাখুন।আমার কিছু হয়ে গেলে এটি মিঃরায়হানকে দিয়ে দেবেন।

একথা শিলা আড়াল থেকে সব শুনে।মনেমনে শিলা গর্ব অনুভাব করে।শিলা আস্তে আস্তে বউমনির ঘরে প্রবেশ করে ।বউমনি আমি তোমাদের সব কথা শুনেছি।আজ আমার আনেক খারাপ লাগছে।আনেক খারাপ ব্যবহার করেছি ওর সাথে।বউমনি দেখতো কি আছে ঐচিপে।তারা দেখে কিন্তু কিছু বুঝতে পারেনা।

এদিকে শিলার বড়ভাই সোহেলদের বসতভিটা নতুন ফ্যাক্টরির জন্য লাগবে বলে জানাই ।সোহেল একথা শুনে বলে জমিতো আপনি পাবেননা উল্টো আপনার ফ্যাক্টরিটাই এখন হয় কিনা সেটাই দেখুন।কে আটকাবে তুমি সামান্য একজন বিয়ারা।ঠিক আছে আটকে দেখাও।সোহেল বলে আমি যেটা করতে চাইনি সেটাই করিয়ে ছাড়বেন।আপনাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।এরপর সে মিঃ গ্রিফিথকে ফোন করে বলে ঐ ফ্যাক্টরি করার অনুমতি আমি বাতিল করলাম।গ্রিফিথ বলেঠিক আছে তুমি যেভাবে চাইছো সেভাবে হবে।

রায়হান সাহেবের নতুন ফ্যাক্টরির অনুমতি বাতিলের চিঠি আসে।সবাই যখন চিন্তিত তখন সোহেল আসে।বউমনি বলে সোহেল বাবা তার সমস্থ স্থাবর অস্থাবর ব্যাংকের কাছে বাধা রেখে এই ফ্যাক্টরির মুলধন যোগিয়েছিল।এখন ব্যাংক সব নিলমে উঠিয়েছে।নিলম হয়ে গেলে আমরা যে রাস্তায় যেয়ে দাড়াবোশিলার বড় ভাই বলে ওকে বলেকি লাভ।এইবাড়ি রক্ষা করা তো দুরের কথা এই বাড়ির দাম কত এটা ধারনা আছে ওর।মিঃ রানা যেদিন মামনি বলবে এবাড়ি তুমি কিনে নাও সেদিন এবাড়ি আমি কিনে নেব।যেদিন বউমনি বলবে সেদিন এবাড়ি আমি কিনে নেব।

মামনি বলে বাবা তুমি একটা কিছু করো।এই বাড়ি ছেড়ে আমি আন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাবতে পারিনা।সোহেল ব্যাংক কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে ঐবাড়ি সে তার মামনির নামে দলিল করে দেয়।

এদিকে দুষ্টুচক্র চিপের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।তারা কোন ভাবে যখন সুত্রটা পাচ্ছেনা তখন তারা শিলাকে কিডনাপ করে।সোহেল জানতে পেরে শিলাকে উদ্ধার করতে যায়।ততক্ষনে শিলার শরিরে মরণ ভাইরাস প্রয়োগ করা হয়ে গেছে।সোহেল ওখান থেকে শিলাকে উদ্ধর করে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং এন্টি ভাইরাস প্রয়োগ করে।শিলা আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে ঊঠে।ততক্ষনে প্রমান হয় সোহেলের আবিস্কার সফল হয়েছে।ততক্ষনে সবাই জেনে গেছে সোহেল আসলে কে।

এরপর সবাই তাদের ভুল বুঝতে পারে এবং সোহেলের কাছে ক্ষমা চাইলো।অতঃপর এক বিশেষ দিনে সোহেলকে বাংলার সেরা বিজ্ঞানি উপাধি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃসাইলার সুখদুঃখের জীবন কাহিনী

 

 

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments