Friday, October 7, 2022
HomeStoryবাংলাদেশের জমিদার ও প্রজাব্যবস্থা

বাংলাদেশের জমিদার ও প্রজাব্যবস্থা

                    বাংলাদেশের জমিদার ও প্রজাব্যবস্থা

 

মোগল আমলে জমিদার ব্যবস্থা:

জমিদার ব্যবস্থার ব্রিটিশ রাজত্বের বহু পূর্ব হতে দেশে প্রচলিত ছিল। মোগল আমলে জমিদাররা রাজস্ব আদায় করা ছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বিচার ও প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করত। এমন কি কোন জমিদারের ওপর সামরিক দায়িত্ব দেওয়া হতো। যুদ্ধকালে তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের শূন্য সরবরাহ করতে হত। এ জমিদার শ্রেণী কে কেন্দ্র সরকার নিযুক্ত করতেন। জমির ওপর তাদের কোনো অধিকার ছিল না। যেকোনো সময় জমিদারকে কেন্দ্রীয় সরকার বরখাস্ত করতে পারত। মোগল আমলের জমিদার ছিল অভিজ্ঞ শাসকশ্রেণীর একটি অংশ। আরো অনেক সময় কেন্দ্রীয় শাসনের অরাজকতা ও দুর্বলতা সুযোগ বুঝে স্বাধীনতা ঘোষণা করত।

ব্রিটিশ কর্তৃক সৃষ্ট জমিদার ব্যবস্থা ও প্রজাশ্রেণী:

মোগল আমলের জমিদার ছিল মোঘল অফিসারদের আঞ্চলিক ভিত্তি। তাদেরকে সরকারের সঙ্গে একান্ত ভাবে থাকতে হতো। কিন্তু ব্রিটিশ কর্তৃক চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে দেশের জমিদার বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পায়। সরকারের সাথে তাদের কোনো প্রশাসনিক সম্পর্ক ছিল না। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিদার শ্রেণীর ভিতর আঙ্গুল পরিবর্তনের ফলে বহু পুরাতন জমিদার পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়‌ এবং তাদের জমিদারী অংশ নতুন জমি তার মধ্যে বিভক্ত কিংবা হস্তান্তরিত হয়। হস্তান্তর পালা অবহিত অবস্থায় থাকে। নতুন আইনে জমিদারি প্রশাসকরা ভাগাভাগি হতে থাকে এরূপ উত্তরাধিকার আইনের ফলে জমিদারি ভাগাভাগি হতে হতে খণ্ড-বিখণ্ড বই আকারে অতি ছোট হয়ে যায় এবং জমিদারের সংখ্যাও বেড়ে যায়। উনবিংশ শতকের শেষভাগে মধ্যস্বত্বভোগীদের উদ্ভব ঘটে। এটা ছিল ভূস্বামী শ্রেণীর সদস্য।

ব্রিটিশ শ্রেষ্ঠ জমিদারের সামাজিক অবস্থান ও অবদান:

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আইনে জমি তার কোন রাজনৈতিক প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকলেও তারা সমাজের হয়ে যায় একমাত্র স্বাভাবিক প্রকৃতির নেতা। যদিও তাদের একমাত্র কাজ ছিল রাজস্ব সংগ্রহ করে এবং সরকারকে নিয়মিত রাজস্ব প্রদান করা। জমিদারের নেতৃত্ব উপেক্ষা করা প্রজাদের চিন্তাশক্তির বাইরে ছিল।

ইংরেজ সরকার শিক্ষা বিস্তারে তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেনি। তাদের উপনিবেশিক স্বার্থে যে শিক্ষা দরকার তারা তার বেশি কিছু করার প্রয়োজন তাড়া অনুভব করেননি। তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার মতো ধনিক শ্রেণীর সম্প্রদায় তেমন ছিল না তবে এদেশের জমিদারগণ শিক্ষা বিস্তারের জন্য অনেক স্কুল কলেজ স্থাপন করেন।

শিক্ষা বিস্তারে না জমিদারগণ সমাজ কল্যাণমূলক কাজে অবদান রেখেছেন। পত্র পত্রিকা প্রকাশ পাঠাগার স্থাপন করে প্রজাসাধারণের অনেক উপকার সাধন করেছেন। গ্রামগঞ্জে বাংলা জনগণ মিলে শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করতে পারে তার জন্য জমিদার গ্রাম পঞ্চায়েত গঠন করেন। তাতে সম্মানিত ধ্বনি কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে পঞ্চায়েত গঠিত হয়। গ্রামে কোনো রকম বিবাদ দেখা দিলে তার সমাধান কত গ্রাম পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েত ব্যর্থ হলে তার জমিদার সমাধান করত।
উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিক থেকে এদেশের ফিলিস্তিনিদের হাতে রাজনীতি চলে যায় তাদের শিক্ষা দর্শন ছিল ব্রিটিশ শাসকদের খেদমত করা বা তুষ্ট রাখা।

রায়ত শ্রেণী ও প্রজাশ্রেণী:

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পড়বে দেশের প্রজাদের নায়ক নামে অভিহিত করা হতো। রায় উত্তর মেরু দখলদার ছিল বংশ কোন ভাবে তারা ভূমি দখল করত তারা কেবলমাত্র জমিদারের জমির অধিকার বঞ্চিত করার কোন অধিকার ছিল না কিন্তু চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমির মালিক হতো জমিদার মালিক হিসেবে জমিদার প্রজাকে ইচ্ছামত জমি দখল উচ্ছেদ করতে পারত ইচ্ছামত খাজনার হার পরিবর্তন করতে পারত বিনা অনুমতিতে জমিতে কোন পুকুর খনন পাকা বাড়ির নির্মাণ কাজ করতাম করতে পারত না এমন কি কোন জমিদারেরা পূর্ব অনুমতি ছাড়া তাদের সন্তানদের বিয়ে-শাদী ও দিতে পারত না। জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রজাদের অসন্তোষ দেখা দেয় ফলে ১৮৫৯ সনের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন আংশিক পরিবর্তন করা হয়। এ সংশোধনী অনুসারে প্রজাকে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। প্রসাদের অধিকার অনেক অংশে মেনে নেওয়া হয়। তথাপি প্রজাদের অসন্তুষ্টি রাজকাহিনী সরকার তাদের অধিকার দিতে বাধ্য হয়। এবার প্রজারা জমি হস্তান্তরে পূর্ব অধিকার পায় তবে শর্ত হলো জমির বিক্রয় মূল্যের ২৫% হস্তান্তরের জন্য জমিদারকে সালামি হিসাবে দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ একটিমধ্যবিত্ত সংসারের গল্প

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments