Friday, October 7, 2022
HomeStory   নয়ন আর সোনালীর ভালোবাসা

   নয়ন আর সোনালীর ভালোবাসা

                         অবুঝ মনের ভালোবাসা

শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে নয়ন।বাবা পেশায় একজন প্রফেসর।শিক্ষাকতার সল্প বেতনে সংসারের চাহিদা মিটানোর পরোপুরি সক্ষমতা হয়ত হয়না তারপরও একটা সুখি পরিবার।যে যতটুকু পাই তাতেই তারা খুশি।নয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের  একজন মেধাবী ছাত্র।ঐএকই কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রী নাম তার সোনালি।সোনালির বাবা একজন কৃপন ব্যবসায়ী।পৃথিবীর সব কিছু সে টাকা দিয়ে বিচার করে।এমন কি প্রেম ভালোসাও।

কলেজে প্রথম দিনই সোনালির হলো এক নতুন অভিক্ষতা।বিশ্ববিদ্যালয়ে ডুকতেই কিছু লাফাংগা ছাত্র সোনালিকে টিচ করতে থাকে।নয়ন ঠান্ডা ও শান্তস্বাভাবের ছেলে।সোনালির এই অপমান সে দাড়িয়ে আর দেখতে পারেনা।সে এই অন্যায়ের তিব্র পতিবাদ করে।এক সময় সে সোনালিকে উদ্ধার করে।সোনালি বলে অপনাকে ধন্যবাদ।নয়ন বলে ধন্যবাদের কিছু নাই।আমি হিরো হওয়ার জন্য কাজটা করিনি।আমার বাবামা আমাকে একটা শিক্ষা দিয়েছেন কোন নারীর অপমান মানে তোমার মায়ের অপমান।তাই কোন নারীর উপর অন্যায় দেখলে তার প্রতিবাদ করবে।তাই আমি প্রতিবাদ করছি ধন্যবাদ পাওয়ার জন্য নয়।।

একথা শুনার পর সোনালি মনেমনে নয়নকে বন্ধু ভাবতে থাকে।সোনালি চায় নয়ন তাকে একটু বেশি সময় দেয়।কিনতু নয়ন তাকে বুঝায় দেখ তুমি বিপদে পড়েছিলে আমি তোমাকে রক্ষা করেছি।এর বাহিরে আর কিছুনা।দেখ আমরা যারা আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী আমাদের প্রত্যেকের জিবনের একটা উদেশ্য থাকে।আমার উদেশ্য আছে।তাই ক্লাস পড়ালেখার বাহিরে অন্যকোথাও সময় দেওয়ার মত সময় আমার নাই।

সোনালির মনে খুব জিদ হয়।সে ভাবে নয়নকে একটা শিক্ষা দিতে হবে।মনেমনে ভাবে ওর এতবড় সাহস ও আমার বন্ধুত্বকে উপেক্ষা করে।এর বদলা আমি নেব।নয়নকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য সে একটু ভিন্ন পথ অবলম্ভন করে।সে একদল গুন্ডা ভাড়া করে নয়নকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য।সোনালি গুন্ডাদের বলে দেয় কোনকিছুই অতিরিক্ত হবেনা।হালকা শিক্ষা হলেই চলবে।দুর থেকে সোনালি নয়নকে দেখিয়ে দিয়ে চলে যায়।

গুণ্ডারা নয়নকে দেখে বলে উঠলো কিরে এ যে মেঘনা চাইতে জল।বলে রাখা ভালো এদের একটা অন্যায় কাজে নয়ন বাধা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল।তাই নয়নয়ের উপর তাদের অনেক রাগ ছিল।তাই তারা এই সুযোগটা কাজে লাগালো।তারা নয়নকে শিক্ষা দিতে এসে তারা চরম শিক্ষা দিল।তারা পুরানো শত্রুতার জের ধরে নয়নকে সামন্য শিক্ষার পরিবতে এমন মার মারলো যে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হলো।

সোনালির বান্ধবী শিলা খবর পেয়ে সোনালির কাছে ছুটে গেল।সে বলে নয়নকে কে বা কারা এমন মার মারছে যেনয়ন ভাই অজ্ঞান অবস্থায় ক্যাম্পাসে পড়ে ছিল।তার বন্ধুরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।তুই কিছু করিসনিতো।নয়নের বন্ধু তার বাবা মা কে খবর দেয়।তার বাবা মা হাস্পাতাতালে ছুটে এলো।ছেলের ঐ অবস্থা তারা খুব কান্নাকাটি করতে থাকে।এমন সময় সোনালি এলো।নয়নের বাবামাকে এই অসহায় অবস্থা দেখে তার মনের মধ্য অনুসচনা হলো।আমার একটা ভুলের মুল্য নয়নকে এতবড় ক্ষতি হবে সে ভাবতেও পারিনি।

সোনালি নিজের অন্যায়ের প্রায়চিত্ত করার জন্য নয়নের সেবাযত্ন করার দায়িত্ব নয়নের মার থেকে চেয়ে নেয়। সোনালি তার নিজের সমস্তো ভালোবাসা উজাড় করে নয়নকে সুস্থ করে তোলে।একসময় সোনালি তার সব দোষ স্বিকার করে এবং সবার কাছে ক্ষমা চাই।সোনালি নয়নের বাবামাকে বলে আমার কারনে আপনাদের ছেলের এই অবস্থা হয়েছিল।তাই আমি আমার সমস্থ ভালোবাসা দিয়ে আপনার ছেলেকে সুস্থ করে দিলাম।এবার আমার যাওয়ার সময় এসেছে।

নয়নের বাবামা সোনালিকে বলে যে ভালোবাসা পাওয়ার জন্য এত কান্ড ঘটালে সে তোমাকে ভালোবাসে কিনা সেটা না জেনে চলে যাবে মা।নয়নের সঙ্গে আমি যে অন্যায় করেছি তারপর আর তার সামনে দাড়িয়ে ভালোবাসার কথা বলার বা শুনার মতো কোন শক্তি বা সাহস কোনাটা আার নেই। তাই আমি চলে যাচ্ছি নয়ন সোনালির হাতটা ধরে বলে এত ভালোবাসা দিয়ে সুস্থ করে আমাকে একা করে তুমি চলে যাচ্ছো।আমি তোমাকে ভালোবাসি

এরপর তারা একেঅপরকে ভালবাসাষ কথা বলেএবং একেঅপরের খুব কাছাকাছি আসে।এক পর্যায় দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। তারা এখন সুখি পরিবার।

আরও পড়ুনঃএক অসহায় ছেলের জীবনি

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments