একটি মধ্যবিত্ত ছেলের আর্তনাদ

মধ্যবিত্ত শব্দটার সাথে মিশে আছে সুখ-দুঃখ রাগ-অভিমান পাওয়া না পাওয়ার হাজারো বেদনা। মধ্যবিত্ত হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যোদ্ধা যাদের প্রতিনিয়ত নিজের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়। মধ্যবিত্ত মানে চোখে থাকে হাজারো স্বপ্ন আর পকেট ফাঁকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেটা ও চাই বাবার সকল স্বপ্ন পূরণ করতে কিন্তু হয়ে ওঠেনা সমর্থরে কারণে।মধ্যবিত্ত ঘরের বাবাটা ও চায় তার সন্তানকে পছন্দের জিনিসটা কিনে দিতে কিন্তু হয়ে ওঠে না ওই মধ্যবিত্ত নামক শব্দটার কারণে। মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেরা যখন টাকার অভাবে তার পছন্দের জিনিসটা কিনতে পারে না তখন বুকের ভিতরে পাহাড় সমান দুঃখ রেখে মুখে মুচকি হাসি দিয়ে বলে থাক এটা আমার লাগবে না ।

এই দুনিয়াতে সবার কষ্টের দাম আছে। একটা বাচ্চা কান্না করলে মানুষের মায়া লাগে। একটা বয়স্ক মানুষ কান্না করলে মানুষের কষ্ট লাগে। শুধু আমার মত মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেদের কান্নার কোন দাম নেই। মধ্যবিত্তের কোন চাওয়া থাকতে নেই,কোন শখ থাকতে নেই,কোনো ইচ্ছা থাকতে নেই।শখের বশে যখন একটা ভালো জামা পড়ি তখন মানুষ আঙ্গুল দিয়ে দেখায় বলে ওই যে মধ্যবিত্তের কি ফুটানি? আবার যখন একটা পুরনো ময়লা জামা পরি তখন সবাই বলে মধ্যবিত্ত তো ভালো কি পরবে? তখন সত্যিই খুব কান্না করতে ইচ্ছা করে কিন্তু কাঁদি না। কারণ মধ্যবিত্তের অপরাধে কান্না করতে ইচ্ছা করে না।

 

মধ্যবিত্ত মানে স্বপ্ন ভেঙ্গে বুকের ভিতর দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুধু একটা কথা বলে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়া ইনশাআল্লাহ একদিন হবে। আমি বড় যোদ্ধা বুকের মধ্যে হাজার কষ্ট থাকলেও দিন শেষে সবার সঙ্গে হেসে খেলে কথা বলি। এতকিছুর পরও মধ্যবিত্ত ছেলেরা কি থেকে অনুপ্রেরণা নেয় জানেন।কারন সে পাঠ্যবই বা শিক্ষিত বড় ভাই বোনের কাছ থেকে শুনেছে যে পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য ব্যক্তিদের জন্ম খুব সাধারন ঘরে।

তুমি আজ কি ভাবছো জীবনটা কেন এত কষ্টের হল। তোমার মনে হচ্ছে তুমি তো কোন অপরাধ করোনি একটা মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিয়ে। তবে কেন তোমাকে এত কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে? কেন তুমি তোমার ইচ্ছে মত চলতে পারছ না? কেনই বা তুমি তোমার জীবনকে নিজের মত করে করতে পারছ না?কেন প্রতি মুহূর্তে তোমার মনে হচ্ছে তোমার জীবনটাই বৃথা?কারণটা কি জানো? কারনটা হল তুমি কখনো তোমার প্রকৃত লক্ষ্যটাতে চলার সাহস করনি। তুমি হয়তো লক্ষ্যস্থির করেছিলে অনেক ।কিন্তু সেটাতে কখনো টিকে থাকতে পারো নি। তুমি শুধু সেটাই করেছো যেটা শুধু আর পাঁচজনকে করতে দেখেছো। তুমি স্বপ্ন তো দেখছো কিন্তু সেটাকে সাজানোর চেষ্টা করনি। তুমি কখনো তোমার চলার গতি পথ নির্দেষ্ট করনি।তোমার লক্ষ্যের গণ্ডি আজও সীমিত তোমার দিধার জালে।তুমি চিন্তা করছে একটা বৃত্তের ভিতর জার করণে বারেবারে তুমি লক্ষ্যভ্রষ্ট হচ্ছো।সময় এসেছে আজ তুমি বাইরে বের হও ওই গণ্ডিটা থেকে যেই গুন্ডিটা দিচ্ছে বাধা তোমাকে তোমার স্বপ্ন পূরণে।সকল নেগেটিভ সিচুয়েশন কে বানাতে হবে তোমার পজিটিভ সিচুয়েশন।জানি কষ্ট হবে দুঃখের সাগরে ভাসবে। কিন্তু তোমাকে বিশ্বাস রাখতেই হবে নিজের প্রতি নিজের লক্ষ্যের প্রতি।

পরিশ্রম সততা নিষ্ঠা থাকলে হয়তো একদিন আমার মত সাধারন ছেলেটার নামের পাশে অসাধারণ শব্দটা যোগ হবে। বেঁচে থাকুক আমার মতো সাধারণ ঘরের ছেলেদের অসাধারণ হওয়ার স্বপ্ন টা।

আর পড়ুনঃ দেওয়ানী দত্ত শাসন ও বাংলা দুর্ভিক্ষ